Uncategorized

আগৈলঝাড়ার গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা, যৌতুকের দাবিতে হত্যার অভিযোগ পরিবারের

 

আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি: বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের ভাল্লুকশী গ্রামের বাসিন্দা আলিম হাওলাদারের মেয়ে সুমি আক্তার মীম (২২)-এর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে যৌতুকের দাবিতে হত্যার অভিযোগ তুলেছে তার পরিবার। এ ঘটনায় মাদারীপুরের ডাসার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, প্রায় দুই বছর আগে ডাসার উপজেলার আজালিয়া গ্রামের আজিজ আকনের ছেলে ফরহাদ আকন (৩৮)-এর সঙ্গে পারিবারিকভাবে সুমি আক্তার মীমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি ও দেবর বিভিন্ন সময় যৌতুকের দাবিতে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। এ বিষয়ে আগে বরিশালের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি সিআর মামলা (নং-১৩০/২০২৪, তারিখ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪) দায়ের করা হয়েছিল, যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
স্বজনরা জানান, দাম্পত্য জীবনে সুমি একদিনও শান্তিতে ছিলেন না। তাদের সংসারে ১৭ মাস বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, গত ১৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে সুমিকে আদর করে শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর মঙ্গলবার বিকেলে তারা খবর পান, সুমি অসুস্থ অবস্থায় মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। হাসপাতালে গিয়ে অনেক খোঁজাখুঁজির পর নতুন ভবনের নিচতলায় ওড়না দিয়ে ঢাকা অবস্থায় তার মরদেহ দেখতে পান। পরিবারের দাবি, মরদেহের পাশে শ্বশুরবাড়ির কাউকে পাওয়া যায়নি এবং স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি ও দেবর ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন। এছাড়া ১৭ মাস বয়সী শিশুটি কোথায় রয়েছে, সে সম্পর্কেও তারা কোনো তথ্য জানাতে পারেননি।
ভুক্তভোগী পরিবারের আরও অভিযোগ, দেবর মহিউদ্দিন আকন সুমির কাছে কানের দুল ও স্বর্ণের চেইন দাবি করেছিলেন। তা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে তাদের সন্দেহ। তারা জানান, মরদেহে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ও ফোলা দাগ দেখা গেছে।
এ ঘটনায় সুমির বাবা বাদী হয়ে ডাসার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
ডাসার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহামুদ জানান, নিহতের বাবা বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

Share

আরও খবর

Sponsered content