আইন-আদালত

মিঠামইনে নিখোঁজ স্কুল ছাত্রী কোহিনুরের ৬ দিনেও সন্ধান মিলেনি, পরিবারের দাবি হত্যা, বিচারের দাবীতে মানববন্ধন ও মিছিল

 

 

 

বিজয় কর রতন, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: মিঠামইন উপজেলা সদরের তমিজা খাতুন সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী কোহিনুর (১৬) এর নিখোঁজের ৬ দিন পরেও সন্ধান মিলেনি। আজ বৃহস্পতিবার ২ রা জুলাই সকাল ১১ টায় মিঠামইন সদরের স্কুল, কলেজ সহ শিক্ষকবৃন্দ নিখোঁজ কোহিনুরের হত্যার বিচারের দাবীতে মানববন্ধন ও মিছিল করেছে। মানববন্ধনে মিঠামইন মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হক সরকারী কলেজ , হাজী তায়েব উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়, তমিজা খাতুন সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সহ কলেজ স্কুলের শিক্ষক বৃন্দ মানববন্ধনে অংশ নেয়। কোহিনুরের মা নাহার বেগম জানান, তার মেয়েকে হৃদয় নামে এক যুবক হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলেছে। তিনি মেয়ে হত্যার বিচার চান ।
উল্লেখ্য,
মিঠামইন উপজেলা সদরের তমিজা খাতুন সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী কোহিনুর (১৬) , গত শনিবার ২৭ শে জুন বিকাল ৪ টা থেকে নিখোঁজ রয়েছে। এ ব্যাপারে কোহিনুরের মা নাহার বেগম মিঠামইন থানায় মেয়ে নিখোঁজের একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। কোহিনুর মিঠামইন হেলিপ্যাডের পাশে মাইনুদ্দিনের কলোনিতে মা ও ভাইয়ের সাথে ভাড়া বাসায় থাকতো । তার বাবার নাম মৃত ফজলু মিয়া। পুলিশ হৃদয় নামে এক অটো চালককে আটক করেছেন। হৃদয় কাওসার হাঁটির মাইনুদ্দিনের পুত্র । অভিযোগকারী নাহার বেগম জানান, ঘটনার দিন শনিবার ২৭ শে জুন বিকালে প্রতিদিনের মতো কোহিনুর প্রাইভেট পড়ার জন্য ৪ টা সময় বাড়ি থেকে বের হয় । প্রতিবেশীরা জানান, রাস্তায় অটোচালক হৃদয়ের সাথে কোহিনুর কে কথা বলতে দেখে । কোহিনুরের সাথে হৃদয়ের সম্পর্ক ছিল। কোহিনুরের মা নাহার বেগম জানান, সন্ধার পরও সে যখন বাড়ি ফিরছিল না তখন প্রাইভেট শিক্ষক হিন্দু পাড়ার কমল ম্যাডামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কোহিনুর আজ প্রাইভেটে আসেনি । এরপর থেকেই বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করে পরিবারের লোকজন। এখন পর্যন্ত তার কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। হটাৎ সোমবার ২৯ শে জুন রাত ১০ টায় ঘোড়াউত্রা নদীর তীরে হামিদ পল্লীর পিছনে লোকজন একটি লাশ ভাসতে দেখে এ সংবাদ পুলিশ কে দেওয়ার পর পুলিশ সেখানে গিয়ে কোন লাশের সন্ধান পায়নি স্থানীয়রা বলছে নদীতে লাশ ভাসতে দেখেছে । এমনকি লাশের ভিডিও প্রকাশ করেছে। লাশের ভিডিও দেখে কোহিনুরের মা নাহার বেগম মেয়েকে চিনতে পেরেছে। কিন্তু নদীর স্রোতে লাশ আর ভেসে উঠেনি । আজ মঙ্গলবার ৩০ শে জুন দুপুর পর্যন্ত লাশের কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। পুলিশ এবং স্থানীয়রা লাশ খোঁজাখুঁজি করছে । মিঠামইন থানার ওসি লিয়াকত আলী জানান, হৃদয় নামে অটোচালক কে এ ঘটনায় আটক করা হয়েছে। হৃদয়ের সাথে কোহিনুরের সম্পর্ক ছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। লাশ খোঁজার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

 

বার্তা প্রেরক: বিজয় কর রতন, মিটামইন, কিশোরগঞ্জ।

Share

আরও খবর

Sponsered content