অবাক দুনিয়া

শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১০ বছরের মাদ্রাসা ছাত্র কে বলাৎকারের অভিযোগ, অষ্টগ্রাম ও সরাইল থানায় অভিযোগ নিয়ে ঠেলাঠেলি

বিজয় কর রতন , কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:

‎ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে নূরে মদিনা হাফিজিয়া মাদ্রাসার এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১০ বছর বয়সী এক ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার আইনি পদক্ষেপের চেষ্টা করলেও স্থানীয়ভাবে একটি মহল আপোষ-মিমাংসার চেষ্টা চালানোয় এখনো মূল থানায় মামলা বা অভিযোগ নথিভুক্ত হয়নি।

‎নির্যাতনের শিকার শিশুটি বর্তমানে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। ঘটনার শিকার ওই ছাত্র ও অভিযুক্ত শিক্ষক দুজনেরই বাড়ি অষ্টগ্রাম উপজেলার বাঙ্গালপাড়া ইউনিয়নে।

‎লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ জুন সরাইল উপজেলার বিশ্বরোড কুট্টাপাড়া এলাকার ওই মাদ্রাসায় এই ঘটনা ঘটে।

‎অভিযুক্ত শিক্ষক অষ্টগ্রাম উপজেলার বাঙ্গালপাড়া ইউনিয়নের রতানী ৬ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা একবর মিয়ার ছেলে মোঃ আব্দুল হান্নান (২৫) অপরদিকে ভুক্তভোগী ছাত্র একই এলাকার মোঃ আওয়াল মিয়ার ছেলে মোঃ শাকিল মিয়া (১০)

‎নির্যাতনের পর শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ২৪ জুন তাকে অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে ঐ ছাত্র চিকিৎসাধীন আছে। পরদিন ২৫ জুন ভুক্তভোগীর পিতা বাদী হয়ে প্রথমে অষ্টগ্রাম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। শিশুটির পিতা আওয়াল মিয়ার সাথে মুটোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অভিযোগের ৬ দিন পরও আমার এই ঘটনার কোন সুরাহা হচ্ছে না। দুই থানার ঠেলাঠেলি তে আদেও বিচার পাবো কিনা সংশয় প্রকাশ করেছেন।

‎এবিষয়ে অষ্টগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রুকনুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানা এলাকায় ঘটায় আমরা ভুক্তভোগীর পরিবারকে সরাইল থানায় সরাসরি লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি। আমি নিজে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাধীন ছাত্রটির সার্বিক খোঁজখবর নিয়েছি এবং প্রয়োজনীয় সব তথ্য সরাইল থানার ওসি-কে পাঠিয়েছি।

‎অন্যদিকে, সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনজুরুল কাদের ভূঁইয়া মুঠোফোনে জানান, আমরা বিষয়টি সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত আছি। ভুক্তভোগী ছাত্রের পিতা অভিযোগ নিয়ে থানায় এসেছিলেন, কিন্তু স্থানীয়ভাবে একটি আপোষ-মিমাংসার চেষ্টা চলার কারণে তারা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগটি জমা দেননি। লিখিত অভিযোগ পেলেই আমরা দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

‎ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক মোঃ আব্দুল হান্নান (২৫) গা-ঢাকা দিয়েছেন। এই বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়, যার কারণে বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
বার্তা প্রেরক: বিজয় কর রতন, মিটামইন, কিশোরগঞ্জ।

Share

আরও খবর

Sponsered content