সারাদেশ

দেবিদ্বারে প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে প্রধান শিক্ষককে ‘আপত্তিকর অবস্থায়’ গণপিটুনির পর উধাও

*আমজাদ হোসেন।। (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় এক প্রবাসীর স্ত্রীর ভাড়া বাসা থেকে এক প্রধান শিক্ষককে আপত্তিকর অবস্থায় পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় জনতা ওই শিক্ষককে গণপিটুনি দিয়ে আটক করে রাখলেও পরে চিকিৎসার কথা বলে কয়েকজন যুবক তাকে নিয়ে চলে যায়। এরপর থেকে তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত ৯টার দিকে উপজেলার ১০ নম্বর গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়নের বল্লভপুর গ্রামের একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত শিক্ষক মো. মুক্তল হোসেন (৫০) উপজেলার মাশিকাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তিনি বনকোট গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার উজানীজোড়া গ্রামের এক প্রবাসীর স্ত্রী (৩০) এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে বল্লভপুর গ্রামের জলিল মোল্লার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। তিনি স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেন বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন।

স্থানীয়দের দাবি, প্রধান শিক্ষক মুক্তল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে ওই নারীর বাসায় রাতে যাতায়াত করতেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় এলাকাবাসী কয়েকদিন ধরে নজরদারি চালান।

মঙ্গলবার রাতে মুক্তল হোসেন ওই বাসায় প্রবেশ করলে বাড়ির নারীরা খোঁজ নিতে যান। এ সময় ঘরের ভেতরে কেউ নেই বলে জানানো হলেও স্থানীয়রা বাসাটি ঘিরে রাখেন। পরে অভিযুক্ত শিক্ষক পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়দের হাতে আটক হন। এ সময় উত্তেজিত জনতা তাকে মারধর করে।

সংবাদ পেয়ে রাত ১২টার পর দেবিদ্বার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ফরহাদের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন, স্থানীয় কয়েকজন যুবক আহত শিক্ষককে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। পরে পুলিশ দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, তাকে সেখানে আনা হয়নি।

দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, রাত ১টা পর্যন্ত অভিযুক্ত শিক্ষককে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাকে উদ্ধারে বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

ওসি আরও জানান, রাতে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি ফোন করে দাবি করেন, প্রবাসী স্বামী পারিবারিক একটি বিষয়ে কথা বলার জন্যই মুক্তল হোসেনকে তার স্ত্রীর কাছে পাঠিয়েছিলেন। তবে বিষয়টির সত্যতা এখনো যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, **“অভিযুক্ত শিক্ষককে না পাওয়া পর্যন্ত এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।”**

এদিকে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. জাকির হোসেন মোল্লা, শিউলি আক্তারসহ একাধিক ব্যক্তি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ১৫ মার্চ একই প্রধান শিক্ষক মুক্তল হোসেনের বিরুদ্ধে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় বিদ্যালয়ে ভাঙচুর, পুলিশের ওপর হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে মামলার পর তাকে কারাগারে পাঠানো হলেও পরে তিনি পুনরায় প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে বহাল থাকেন।

প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অভিযুক্ত শিক্ষক মুক্তল হোসেনের সন্ধান পায়নি পুলিশ। ঘটনাটি তদন্ত করছে দেবিদ্বার থানা পুলিশ।

Share

আরও খবর

Sponsered content