অবাক দুনিয়া

ভারত-বাংলাদেশের সুপরিচিত সাহিত্য-সারথী, প্রাবন্ধিক, কলামিস্ট, ঔপন্যাসিক, কণ্ঠশিল্পী, নাট্যাভিনেত্রী, গল্পকার, ছড়াকার ও বিশিষ্ট কবি মাধুরী ব্যানার্জীর অণুগল্প: ভালোবাসার দেশ

 

ভালোবাসার দেশ
-মাধুরী ব্যানার্জী

গ্রামের নাম ছিল শান্তিপুর। ছোট্ট সেই গ্রামটিতে মানুষজন খুব সাধারণ জীবনযাপন করত। কিন্তু সেখানে একটি অদ্ভুত সমস্যা ছিল—মানুষ একে অপরের সঙ্গে খুব কম কথা বলত। সামান্য কারণে ঝগড়া, অভিমান আর দূরত্ব ছিল নিত্যদিনের ঘটনা।
সেই গ্রামেই থাকত দশ বছরের একটি মেয়ে, নাম মঞ্জুলা। সে ছিল খুবই প্রাণবন্ত। একদিন স্কুলে শিক্ষক বললেন, “পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর দেশ হলো ভালোবাসার দেশ। সেখানে মানুষ একে অপরকে সম্মান করে, সাহায্য করে এবং সুখ-দুঃখ ভাগ করে নেয়।”
মঞ্জুলার মনে প্রশ্ন জাগল, “ভালোবাসার দেশ কোথায়?”
সে অনেককে জিজ্ঞেস করল, কিন্তু কেউ সঠিক উত্তর দিতে পারল না। অবশেষে সে তার দিদার কাছে গেল।
দিদা হেসে বললেন, “ভালোবাসার দেশ কোনো মানচিত্রে নেই। মানুষের হৃদয়ের মধ্যেই তার বাস।”
মঞ্জুলা কথাটা পুরোপুরি বুঝতে পারল না। তবে সে সিদ্ধান্ত নিল, নিজের গ্রামকেই ভালোবাসার দেশ বানাবে।
পরদিন থেকে সে কাজ শুরু করল। বৃদ্ধা সরস্বতী দেবীর জন্য বাজার থেকে ওষুধ এনে দিল। দুই ঝগড়াটে বন্ধুর মধ্যে মিল করিয়ে দিল। অসুস্থ প্রতিবেশীর বাড়িতে খাবার পৌঁছে দিল। তার ছোট ছোট কাজ দেখে অন্যরাও অনুপ্রাণিত হতে লাগল।
কয়েক মাসের মধ্যেই গ্রামের চেহারা বদলে গেল। মানুষ একে অপরের খোঁজ নিতে শুরু করল। ঝগড়ার বদলে হাসি, অভিমানের বদলে সহমর্মিতা দেখা দিল। গ্রামের উৎসবগুলোও হয়ে উঠল আরও আনন্দময়।
একদিন শিক্ষক আবার জিজ্ঞেস করলেন, “বল তো, ভালোবাসার দেশ কোথায়?”
মঞ্জুলা মৃদু হেসে উত্তর দিল, “যেখানে মানুষ মানুষকে ভালোবাসে, সাহায্য করে আর সম্মান করে—সেখানেই ভালোবাসার দেশ।”
শিক্ষক গর্বভরে মাথা নাড়লেন। আর শান্তিপুর গ্রামের মানুষ বুঝতে পারল, ভালোবাসার দেশ দূরে কোথাও নয়; তা গড়ে ওঠে মানুষের হৃদয়ে এবং তাদের আচরণে।
নৈতিক শিক্ষা: ভালোবাসা, সহানুভূতি ও পারস্পরিক সম্মান একটি সাধারণ স্থানকেও স্বর্গের মতো সুন্দর করে তুলতে পারে।

Share

আরও খবর

Sponsered content