অপরাধ

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত শত কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী মোঃ বেলাল হোসেন বিরুদ্ধে

 

এবি সিদ্দীক ভুইয়া : স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্বে ) মোঃ বেলাল হোসেন-এর বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট গঠন, বদলি বাণিজ্য এবং নানান অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্বে) মো. বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত শত কোটি টাকার সম্পদ অর্জন, কাজ না করে বিল উত্তোলন ও ব্যাপক বদলি বাণিজ্যের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দাখিল হওয়া এসব অভিযোগ নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে ।

বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগগুলো হলো:

অবৈধ সম্পদ অর্জন: তাঁর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের সাথে মিল নেই এমন শত কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে ।

কাজ না করে বিল উত্তোলন: বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাবে প্রায় ৪০টি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ না করেই শতভাগ বিল তুলে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে ।

কর্মসংস্থান ও বদলি বাণিজ্য: তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী থাকাকালীন রাজনৈতিক সুপারিশে ১,১২৫ জন ছাত্রলীগ কর্মীকে নিয়ম ভেঙে চাকরি দেওয়ার এবং বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে ৫০-৬০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে ।

বিভাগীয় তদন্তে অবহেলা: মাঠপর্যায়ের দুর্নীতি ও কাজের অনিয়মের বিরুদ্ধে কোনো বিভাগীয় মামলা রুজু না করারও অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে ।

​সংশ্লিষ্ট সুত্র বলছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের পুরো সময়জুড়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্বে ) মোঃ বেলাল হোসেন বিগত দিনেও এই সংস্থায় অনিয়ম দুর্নীতির করে অর্থনৈতিক সুযোগ সুবিধাভোগী এই কর্মকর্তা পুরো ফায়দা তোলেন নিজের ঘরে। দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব )পান মোঃ বেলাল হোসেন।আর তিনি দায়িত্বে বসার পর থেকেই শুরু হয় নজিরবিহীন বদলি বাণিজ্য, টেন্ডার বাণিজ্য,কাজ পাওয়ার বাণিজ্য।

​ একটি সিন্ডিকেট গঠন করে গোপনীয়তায় লেনদেন করেন। গোপনে তদন্ত করলেই এমন তথ্য বেরিয়ে আসবে বলছেন দফতরের একাধিক প্রকৌশলী।

নাম না প্রকাশ করার সত্ত্বে এক প্রকৌশলী বলেন একটি সিন্ডিকেট গঠন করে বদলি বাণিজ্য, টেন্ডার বাণিজ্য,কাজ পাওয়ার বাণিজ্য। গোপনীয়তায় লেনদেন করেন।

এদিকে, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরে প্রধান প্রকৌশলী চেয়ারে বসতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন বেলাল হোসেন । যেকোনো উপায়ে এই শীর্ষ পদে টিকে থাকতে এই সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রীদের দফতরে তিনি নিয়মিত যাতায়াত করেও তদবির চালাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

তার নিজ এলাকায় একাধিক ব‍্যক্তি নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, আওয়ামী লীগের সময় সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। আওয়ামী লীগের রাজনীত সাথে জড়িত ছিলেন তার পরিবার।তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ সেটা সত্য। তিনি নামে বেনামে সম্পদ গড়েছেন।বিদেশেও তার সম্পদ রয়েছে। একথা গুলো তাদের নিজ এলাকায় বিভিন্ন ব‍্যক্তির কাছ থেকে জানাযায়। আওয়ামী লীগে বড় নেতাদের সাথে বতর্মানে ও কথা হয় বলেন জানান তারা।

নাম না প্রকাশ করার সত্ত্বে একজন কর্মকর্তা বলেন,প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেনে আসার সাথে সাথে যারা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন তারা সবাই ভালো স্থানে বদলি হয়েছেন টাকার বিনিময়ে তদবিরের মাধ্যমে ।

এ বিষয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড.ইফতেখারুজ্জামান বলেন,
সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের বসে তারা সেখানে বসেই অবৈধভাবে অর্থ নিচ্ছে রক্ষক যখন বক্ষকের ভুমিকায় ।অবৈধভাবে টাকা উত্তোলন এটি কোন ছোট্ট অপরাধ নয়।দুর্নীতি কখনো ছোট বড় নয় দুর্নীতি তো দুর্নীতিই সেটি যেমনই হোক। ছোট বড় দুর্নীতিতো দুর্নীতিই জন্ম দেয়। দুদক আগের চেয়ে ভালো কাজ করছে এতে কোনো সন্দেহ নেই। দুদকের দুর্নীতির বিষয়ে আর বিশদ অনুসন্ধান প্রয়োজন। কেননা যে তুলনায় দুর্নীতির অভিযোগ আসে সেই তুলনায় দুদক অনুসন্ধান করতে পারে না। যদি সকল দুর্নীতি দুদক অনুসন্ধান করতে পারতো তাহলে দুর্নীতি অনেকাংশে কমে আসত। তবে আমরা আশাবাদী দুর্নীতিবাজদের শিকড় উপড়ে ফেলা সম্ভব সেটি একদিন হবেই।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এক কর্মকর্তা
বলেন,আমরা অনেক দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করছি। সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে বসে দুর্নীতির সাথে জড়িয়ে পরেছেন কিছু বড় কর্মকর্তা। প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেনের বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে দেখতে হবে।দুর্নীতির সাথে জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে কি না ।অভিযোগ পেলে সেটা তদন্তের মাধ্যমে আইন আনুগব‍‍্যবস্থা গ্রহন করা হবে। যারাই অপরাধ করুক না কেন আমাদের অনুসন্ধানে যদি কোনোভাবে প্রমাণিত হয়।তবে আমরা তাদের বিরুদ্ধে মামলা করব এবং প্রয়োজনীয় যত ব্যবস্থা আছে তা নেব। কোনো দুর্নীতিবাজকে ছাড় দেওয়া হবে না।

​অভিযোগের বিষয়ে প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কথা বলতে রাজি হননি। এমনকি তার ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে অভিযোগের বিষয়গুলো লিখে মেসেজ পাঠানো হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি।

Share

আরও খবর

Sponsered content