সারাদেশ

নওগাঁতে ভূমি দস্যুর দখলে অসহায় মানুষের জুমি

 

নূরে আলম নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি

নওগাঁ সদর উপজেলার দুবলহাটি ইউনিয়নের সনলিয়া গ্রামে সম্প্রতি এক উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ভূমি দখলের অভিযোগে সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে স্থানীয় অধিবাসীরা এক মানববন্ধন আয়োজন করেন

গতকাল রোববার বিকেলের দিকে সনলিয়া ডিপের মোড় (তিনমাথা) এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ভুক্তভোগী হিসেবে দাবি করা হারুন-অর-রশিদ, যে ৬ নম্বর দুবলহাটি ইউনিয়ন জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের সভাপতি; উপস্থিত ছিলেন ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. হায়দার আলী শাহ, ৭ নম্বর ওয়ার্ড মৎস্যজীবী দলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি আসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

মানববন্ধনে বারবার উচ্চারিত হয়েছে জমির মালিকানার প্রশ্ন। হারুন-অর-রশিদ তার বক্তব্যে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বানোয়াট। তিনি জোর দেন যে সামাজিকভাবে তাকে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যেই এমন প্রচারণা চালানো হয়েছে। তীব্র নিন্দা জানানোর পাশাপাশি দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতেও সোচ্চার ছিলেন তিনি।

হারুন-অর-রশিদ বিস্তারিতভাবে জানান যে প্রায় ৩০ বছর আগে জমির মূল মালিক ভারত চলে যাওয়ার পর জমিটির পরিস্থিতি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দারা এটি জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য একটি মোড় হিসেবে গড়ে তোলেন, যেখানে প্রতিদিন স্থানীয়রা বসেন এবং কাঁচা সবজি, মাছসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করেন। তিনি দাবি করেন, ওই স্থানে একটি গোলাকার বসার স্থান নির্মাণ এবং একটি বটগাছ রোপণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন স্থানীয় চেয়ারম্যান। এর ফলে, এলাকাটি ধীরে ধীরে একটি ছোট্ট বাজারে পরিণত হয়।

তার অভিযোগ, সাইফুল ইসলাম এই জায়গাটিকে তার ক্রয়কৃত সম্পত্তি হিসাবে দাবি করে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নেন, যা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। বিষয়টি জেনে স্থানীয় বাসিন্দারা সাইফুলের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান, যার ফলে নির্মাণকাজ থেমে যায়। হারুন-অর-রশিদ এ ঘটনাটি ব্যক্তিগত স্বার্থের ভিত্তিতে রাজনৈতিকভাবে তাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা হিসাবে দেখছেন এবং মিথ্যা অভিযোগের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী এলাকাবাসীরাও সমস্বরে বলেন, জনসাধারণের ব্যবহৃত সেই জায়গা কোনোভাবে দখল করতে দেওয়া উচিত হবে না। তবে তারা উল্লেখ করেন, যদি সাইফুল ইসলামের কাছে যথাযথ দলিলপত্র থাকে এবং তিনি আইনগতভাবে জমির মালিকানা প্রমাণ করতে পারেন, তাহলে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসিত হওয়া উচিত। অভিযোগের বিষয়ে সাইফুল ইসলামের মন্তব্য জানতে তার সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মুঠোফোন তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নূরে আলম
নওগাঁ

Share

আরও খবর

Sponsered content