আমজাদ হোসেন
দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
কুমিল্লার দেবিদ্বার পৌর এলাকার একটি কবরস্থানে কিশোরীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় থাকা দুই কিশোরকে দেখে প্রতিবাদ করায় কথিত ‘রেড ৯৯৯’ কিশোর গ্যাং–এর এক সদস্যের ছুরিকাঘাতে সফিকুল ইসলাম (৭০) নামে এক বৃদ্ধ গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে দেবিদ্বার পৌর এলাকার ভূষণা গ্রামের মজিব কমিশনারের বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, ওই দিন সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ সার কারখানার কর্মচারী শহিদুর রহমান (৪৫) হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তাঁর গ্রামের বাড়ি মুরাদনগরের বাতাপুকুরিয়া হলেও পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শ্বশুরবাড়ি ভূষণা গ্রামে বাদ মাগরিব দাফনের প্রস্তুতি চলছিল। সেই লক্ষ্যে স্বজন সফিকুল ইসলাম কবর খননের জন্য কবরস্থানে যান।
অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, ‘রেড ৯৯৯’ কিশোর গ্যাংয়ের চিহ্নিত সদস্য রামিম (১৭) ও সায়মন (১৭) এক কিশোরীকে (১৬) নিয়ে কবরস্থানের দেয়ালঘেঁষা স্থানে আপত্তিকর অবস্থায় রয়েছে। সফিকুল ইসলাম তাদের কবরস্থান থেকে সরে যেতে এবং এমন আচরণ না করতে বললে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের দাবি, একপর্যায়ে রামিম ক্ষিপ্ত হয়ে সফিকুল ইসলামকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় এবং কোমর থেকে ধারালো ছুরি বের করে উপর্যুপরি আঘাত করে। তিনি কয়েকটি আঘাত ঠেকাতে সক্ষম হলেও এক আঘাতে তাঁর বাম হাতে গুরুতর জখম হয়। পরে তাঁর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে রামিম ও সায়মন পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে থাকা কিশোরীকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশে খবর দেন।
আহত সফিকুল ইসলামকে উদ্ধার করে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে তাঁর হাতে ছয়টি সেলাই দেওয়া হয়।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় সফিকুল ইসলাম বলেন,
“আমি আত্মীয়ের কবর খুঁড়তে গিয়ে দেখি একটি মেয়ে ও দুই ছেলে আপত্তিকর অবস্থায় রয়েছে। আমি শুধু বলেছিলাম, এটি কবরস্থান, এখানে এমন কাজ করা ঠিক নয়। এতেই রামিম আমার ওপর হামলা চালিয়ে ছুরিকাঘাত করে।”
দেবিদ্বার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তানভীর জানান, অভিযুক্ত রামিম দেবিদ্বার পৌর এলাকার বানিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং কথিত ‘রেড ৯৯৯’ কিশোর গ্যাংয়ের সক্রিয় সদস্য। তার বিরুদ্ধে পূর্বেও একাধিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও কিশোর গ্যাং সংশ্লিষ্ট মামলার অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানো হলেও সে পালিয়ে যায়।
ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া কিশোরী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। তাকে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তার মায়ের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “আহত ব্যক্তি অভিযোগ বা মামলা করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্ত রামিমের বিরুদ্ধে আগের একাধিক মামলাও রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।”
ঘটনার পর এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য রোধে দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
মোঃ শাহাদাত ভূঁইয়া
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়
পুরানা পল্টন, ঢাকা
মোবাইল: 01711928746
ই-মেইল: bangladeshsangbad2023@gmail.com
Copyright © 2026 বাংলাদেশ সংবাদ. All rights reserved.