রূপোলি চাঁদের রোশনাই
-মাধুরী ব্যানার্জী
গ্রামের নাম ছিল চন্দ্রপুর। চারদিকে সবুজ ধানের ক্ষেত, মাঝখানে শান্ত একটি নদী। পূর্ণিমার রাতে সেই নদীর জলে যখন চাঁদের আলো পড়ত, তখন মনে হতো কেউ যেন রূপোর গুঁড়ো ছড়িয়ে দিয়েছে।
সেই গ্রামেই থাকত অনন্যা। ছোটবেলা থেকেই তার বিশ্বাস ছিল—চাঁদের আলো শুধু পৃথিবীকে আলোকিত করে না, মানুষের মনকেও নতুন করে জাগিয়ে তোলে। তাই প্রতি পূর্ণিমায় সে নদীর ধারে গিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে বসে থাকত।
একদিন পূর্ণিমার রাতে সে দেখল, নদীর ধারে এক বৃদ্ধ বসে আছেন। তাঁর চোখে ছিল গভীর বিষণ্নতা। অনন্যা কাছে গিয়ে জানতে চাইল, “আপনি এত একা বসে আছেন কেন?”
বৃদ্ধ মৃদু হেসে বললেন, “আজ আমার স্ত্রীর জন্মদিন। তিনি আর নেই। তবে প্রতি পূর্ণিমায় মনে হয়, এই চাঁদের আলোতেই তিনি আমার সঙ্গে কথা বলতে আসেন।”
অনন্যা কিছু বলল না। শুধু নদীর দিকে তাকিয়ে রইল। রূপোলি চাঁদের রোশনাই যেন দু'জনের নীরবতাকে এক অদৃশ্য বন্ধনে বেঁধে দিল।
এরপর থেকে প্রতি পূর্ণিমায় গ্রামের অনেক মানুষ নদীর ধারে জড়ো হতে শুরু করল। কেউ গান গাইত, কেউ কবিতা আবৃত্তি করত, কেউ আবার শুধু নীরবে চাঁদের দিকে তাকিয়ে থাকত। ধীরে ধীরে সেই রাতগুলো গ্রামের মানুষের কাছে হয়ে উঠল আনন্দ, স্মৃতি আর আশার মিলনমেলা।
বৃদ্ধের মুখেও ফিরে এল হাসি। তিনি বলতেন, “মানুষ চলে যায়, কিন্তু ভালোবাসা থেকে যায়। আর সেই ভালোবাসার পথ দেখায় এই রূপোলি চাঁদের রোশনাই।”
সেদিনের পর অনন্যা বুঝেছিল, চাঁদের আলো আকাশ থেকে নেমে এলেও তার আসল দীপ্তি জ্বলে মানুষের হৃদয়ে। যে হৃদয়ে ভালোবাসা, স্মৃতি আর সহমর্মিতা বেঁচে থাকে, সেখানেই রূপোলি চাঁদের রোশনাই কখনও ফুরিয়ে যায় না।
মোঃ শাহাদাত ভূঁইয়া
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়
পুরানা পল্টন, ঢাকা
মোবাইল: 01711928746
ই-মেইল: bangladeshsangbad2023@gmail.com
Copyright © 2026 বাংলাদেশ সংবাদ. All rights reserved.