(লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি:আবু সালমান
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে ছোট ভাইয়ের প্রেমিকার দায়ের করা ধর্ষণ ও প্রতারণা মামলায় আবুল কালাম মাষ্টার নামের এক স্কুল শিক্ষককে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। তিনি নোয়াখালী সদর উপজেলার উত্তর ওয়াপদা হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক এবং উপজেলার চর ফলকন ইউনিয়নের চৌধুরী মিয়ার বড় ছেলে।
গত ২২ জুন (সোমবার) লক্ষ্মীপুর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে বিজ্ঞ আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে তিনি কারাগারে যাওয়ার বিষয়টি বৃহস্পতিবার জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
আদালত ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চর ফলকন ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চৌধুরী মিয়ার ছোট ছেলে ওমান প্রবাসী কামাল হোসেনের সাথে একই এলাকার এক তরুণী ও লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীর দীর্ঘ ৮ বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল কামাল প্রবাস থেকে দেশে ফেরেন। পরে ২৩ এপ্রিল তরুনীকে কৌশলে লক্ষ্মীপুরের একটি কাজী অফিসে নিয়ে গোপনে বিয়ে করেন। এরপর কমলনগর উপজেলা পরিষদের নিকটবর্তী একটি ভাড়া বাসায় রেখে তরুণীর সঙ্গে সংসার ও শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হন।
পরবর্তীকালে তরুনীকে স্ত্রীর স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করে সকল ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন প্রেমিক কামাল হোসেন। কোনো উপায় না দেখে গত ৩ মে সকাল থেকে স্ত্রীর সীকৃতির দাবীতে কামালের বাড়িতে অবস্থান নিয়ে আমরণ অনশনে বসেন ওই তরুণী।
অনশন চলাকালীন প্রেমিক কামালের বড় ভাই আবুল কালাম এবং বাবা চৌধুরী মিয়া তরুনীকে গালিগালাজ, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন ছুটে আসলে আবুল কালাম ও তার বাবা দুই দিনের সময় চেয়ে বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসা করে পুত্রবধূ হিসেবে মেনে নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে অনশন ভাঙেন ওই তরুণী।
মামলার এজাহার সূত্রে আরও জানা যায়, পরবর্তীতে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করে প্রধান আসামি কামাল হোসেনকে কৌশলে অজ্ঞাত স্থানে আত্মগোপনে পাঠিয়ে দেন তার বড় ভাই আবুল কালাম। একই সাথে বিয়ের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও হাতিয়ে নিয়ে পুরো ঘটনাটি অস্বীকার করে তরনীকে মানসিকভাবে হয়রানি করা হয়। এই প্রতারণা ও জালিয়াতির ঘটনায় ন্যায়বিচার পেতে তরুণী বাদী হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রেমিক কামাল হোসেনের পাশাপাশি তার বড় ভাই আবুল কালাম ও বাবা চৌধুরী মিয়াকেও আসামি করা হয়।
বাদির আইনজীবী লক্ষ্মীপুর জজকোর্টের এডভোকেট হারুনুর রশিদ বলেন, বিয়ের নামে ভিকটিমের সাথে চরম প্রতারণা ও জালিয়াতি করা হয়েছে। আসামিরা শুধু ওই ছাত্রীর জীবন নষ্ট করেনি, বরং বিয়ের কাগজপত্র হাতিয়ে নিয়ে তাকে সামাজিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে। মূল আসামিকে পালিয়ে যেতে এবং প্রমাণ লোপাট করতে বড় ভাই আবুল কালাম সরাসরি সহযোগিতা করেছেন, যা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। আমরা আদালতের কাছে ন্যায়বিচারের স্বার্থে আসামির জামিনের তীব্র বিরোধিতা করেছি। বিজ্ঞ আদালত সার্বিক দিক বিবেচনা করে আসামী আবুল কালামের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর সঠিক সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। আমরা আশাবাদী, ভিকটিম আদালতে পূর্ণাঙ্গ ন্যায়বিচার পাবেন।
এ বিষয়ে কমলনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফরিদুল আলম জানান, আদালতের নির্দেশনায় অধিকতর তদন্ত সাপেক্ষে মামলাটি নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। মামলার অন্যতম আসামি আবুল কালাম আদালতে আত্মসমর্পণ করলে বিজ্ঞ আদালত তাকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। মামলার অন্য আসামিদের বিষয়েও আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মোঃ শাহাদাত ভূঁইয়া
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়
পুরানা পল্টন, ঢাকা
মোবাইল: 01711928746
ই-মেইল: bangladeshsangbad2023@gmail.com
Copyright © 2026 বাংলাদেশ সংবাদ. All rights reserved.