বিজয় কর রতন, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার আব্দুল্লাহপুর গ্রামে কালনী নদীর পাড় থেকে উদ্ধার হওয়া বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী যুবক সফিক মিয়া (৩০) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা দায়েরের মাত্র ৮ ঘণ্টার মধ্যেই দুই এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে অষ্টগ্রাম থানা পুলিশ।
নিহত সফিক মিয়া উপজেলার খয়েরপুর-আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর গ্রামের মৃত আজিজুল হকের ছেলে। তিনি স্থানীয় আব্দুল্লাহপুর বাজারে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে আব্দুল্লাহপুর গ্রামের সামনে কালনী নদীর পাড়ে মুখমণ্ডল থেঁতলানো অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সফিক মিয়া বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ছিলেন এবং দুই কন্যাসন্তানের জনক। সম্প্রতি তার স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হলেও স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ চলছিল। ভরণপোষণ বাবদ একটি অর্থ লেনদেন নিয়েও আলোচনা চলছিল বলে এলাকাবাসীর মধ্যে জানা যায়। এ অবস্থায় তার রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে অষ্টগ্রাম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অষ্টগ্রাম থানায় মামলা নং-১৩, তারিখ ২০ জুন ২০২৬, ধারা ৩০২/৩৭৯/৩৪ পেনাল কোডে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
মামলা দায়েরের পরপরই অষ্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রোখনুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযান শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, গোয়েন্দা তথ্য এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে মাত্র ৮ ঘণ্টার মধ্যেই মামলার দুই এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, হান্নান মিয়া (৪২), পিতা মৃত শের আলী, গ্রাম-আব্দুল্লাহপুর (মুন্সীবাড়ী) এবং ফরহাদ (৩৫), পিতা মো. ছিদ্দিকুর রহমান, গ্রাম-আব্দুল্লাহপুর (জামিরা বাড়ি)।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং এর সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
অষ্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রোখনুজ্জামান বলেন, ঘটনার পর থেকেই পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত ও অভিযান পরিচালনা করছে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুত সময়ের মধ্যে দুই এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দ্রুত আসামি গ্রেপ্তার হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে ঘটনার সম্পূর্ণ রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িত সকলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
বার্তা প্রেরক: বিজয় কর রতন, মিটামইন,কিশোরগঞ্জ।
মোঃ শাহাদাত ভূঁইয়া
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়
পুরানা পল্টন, ঢাকা
মোবাইল: 01711928746
ই-মেইল: bangladeshsangbad2023@gmail.com
Copyright © 2026 বাংলাদেশ সংবাদ. All rights reserved.